Venom Wiki
টাইগার সাপ-এর কার্টুন
নং 0172, মোট 1 402

টাইগার সাপ

Notechis scutatus
নামের কথা: গায়ের ডোরার জন্য এই নাম। ডোরাগুলো বাঘের ডোরার মতো কালো আর হলুদ।1
প্রাণঘাতীপৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণীদের একটি। যদি এটা তোমাকে কামড়ায়, এখনই সাহায্য ডাকো।দ্রুত সাহায্য আর অ্যান্টিভেনম বেশিরভাগ মানুষকে বাঁচায়। এখনই তোমার জরুরি নম্বরে ফোন করো।
অস্ট্রেলিয়ার সাপ কামড়খায়: মাংস
মানুষের জন্য বিপদ: প্রাণঘাতীপৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণীদের একটি।

টাইগার সাপ একটি বড় এবং মারাত্মক বিষধর সাপ। এটি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় থাকে, উপকূলের দ্বীপগুলো আর তাসমানিয়াতেও। এর গায়ে কালো আর হলুদ ডোরা থাকে, দেখতে বাঘের ডোরার মতো। তাই এর নাম টাইগার সাপ। তবে এর রং অনেক রকম হতে পারে। এর কামড়ে মানুষ মারা যেতে পারে। তাই অস্ট্রেলিয়ার মানুষকে এই সাপ চিনতে আর এ থেকে সাবধানে দূরে থাকতে শেখানো হয়।1

থাকে
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, এর উপকূলের দ্বীপগুলো এবং তাসমানিয়া1
অস্ট্রেলিয়া ও ওশেনিয়া
হোম
টাইগার সাপ সাধারণত উপকূলীয় এলাকায় দেখা যায়। এরা জলাভূমি, খাঁড়ি, বাঁধ আর জলধারার কাছের জায়গা পছন্দ করে। চাষবাস ও পশুচারণের এলাকায় এরা সারা বছর পানি থাকে এমন জায়গার কাছে আশ্রয় নেয়। এরা সাধারণত মাটিতে থাকে। তবে সাঁতার কাটতে পারে, আর গাছে ও বাড়িঘরেও উঠতে পারে।1
দৈর্ঘ্য
90 cm থেকে 2 m (3 ft থেকে 6.6 ft)1
সাধারণ টাইগার সাপের গড় দৈর্ঘ্য ৯০ সেমি, সর্বোচ্চ প্রায় ১২০ সেমি। রেকর্ড করা দৈর্ঘ্য ২০০ সেমি। চ্যাপেল দ্বীপের টাইগার সাপের গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯০ সেমি।
সর্বোচ্চ গতি
প্রায় 7.3 কিমি/ঘণ্টা (4.5 মাইল/ঘণ্টা)
ডাঙায়, আনুমানিক হিসাব
এটা কী খায়?
টাইগার সাপ বিষ দিয়ে শিকার মারে। দ্বীপে থাকা সাপদের মাথা বিবর্তনের ফলে বড় হয়েছে, যাতে তারা বড় শিকার খেতে পারে।1
সত্যি!টাইগার সাপ-এর ছবি
টাইগার সাপ। ছবি: Max Tibby। CC0, Wikimedia Commons.

কীভাবে চিনবে

  • গায়ে গাঢ় রঙের ডোরা থাকে। ডোরাগুলো খুব স্পষ্ট বা হালকা হতে পারে। রং ফিকে থেকে খুব গাঢ় পর্যন্ত হয়।1
  • গায়ের মূল রং জলপাই-সবুজ, হলুদ, কমলা-বাদামি বা কুচকুচে কালো। পেটের দিক হালকা হলুদ বা কমলা।1
  • কিছু এলাকার সাপের গায়ে কোনো ডোরা থাকে না। তাই শুধু ডোরা দেখে নিশ্চিতভাবে চেনা যায় না।1
  • সাধারণত প্রায় ১.২ মিটার লম্বা হয়। শরীর মোটাসোটা, মাথা ভোঁতা।1

প্রায়ই যার সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়: রং দেখে টাইগার সাপকে আলাদা করে চেনা যায় না, এমনকি এদের নিজেদের উপপ্রজাতিগুলোকেও না। সঠিকভাবে চেনার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া। তিনি বিষ পরীক্ষার কিট ব্যবহার করে বা আঁশ গুনে সাপটিকে শনাক্ত করতে পারেন।1

বিষের শক্তি

কামড়

কামড়ানোর সময় বিষদাঁত বা দাঁত দিয়ে বিষ বের হয়।

এর বিষ কী করে?

টাইগার সাপের বিষে আছে শক্তিশালী নিউরোটক্সিন (যা স্নায়ুর ক্ষতি করে), কোয়াগুল্যান্ট (যা রক্ত জমাট বাঁধায় প্রভাব ফেলে), হিমোলাইসিন (যা রক্তকণিকা ভেঙে দেয়) এবং মায়োটক্সিন (যা মাংসপেশির ক্ষতি করে)। প্রথম দিকের লক্ষণ হলো পা ও ঘাড়ের অংশে নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যথা, ঝিনঝিন করা, অবশ ভাব এবং ঘাম হওয়া। এরপর বেশ দ্রুত শ্বাসকষ্ট ও পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) হতে পারে।1

মানুষের জন্য এটা কতটা বিপজ্জনক?

মানুষের জন্য বিপদ: প্রাণঘাতীপৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণীদের একটি।

২০০৫ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় যেসব সাপে কামড়ানো রোগীর সাপ শনাক্ত করা গেছে, তাদের ১৭% টাইগার সাপের কামড়ের শিকার। নিশ্চিতভাবে বিষ ঢোকার ১১৯টি ঘটনায় ৪ জন মারা গেছেন। এই সাপের কামড় মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় সাপের কামড়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে শুধু ব্রাউন সাপ এর চেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটায়। একটি গবেষণা অনুযায়ী, চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর হার ৪০% থেকে ৬০%।1

সুখবর: ডাক্তারদের কাছে এর ওষুধ (অ্যান্টিভেনম) বা চিকিৎসা আছে।1

ভয় পেলে এটা কী করে?

বিপদ টের পেলে সাপটি শরীর চ্যাপ্টা করে এবং মাথা মাটি থেকে ওপরে তোলে। ছোবল দেওয়ার আগে এটিই এর চেনা ভঙ্গি।1

যদি কামড়ায়

  • প্রেশার ইমোবিলাইজেশন পদ্ধতি (চাপ দিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে অঙ্গ নড়াচড়া বন্ধ রাখা) ব্যবহার করুন। কামড়ের জায়গার ওপর চওড়া, মোটা ব্যান্ডেজ বাঁধুন। তারপর ব্যান্ডেজ নিচের দিকে নামিয়ে আবার পুরো হাত বা পা বরাবর ওপরে বগল বা কুঁচকি পর্যন্ত বাঁধুন। স্প্লিন্ট দিয়ে হাত বা পা নড়াচড়া বন্ধ রাখুন। তাসমানিয়ায় সাপ শনাক্ত করার দরকার নেই, কারণ সেখানে একই অ্যান্টিভেনম দিয়ে সব সাপের কামড়ের চিকিৎসা হয়।1
  • চাপ দিয়ে স্থির রাখা: কামড়ের ওপর আর তারপর পুরো হাত বা পা জুড়ে একটা শক্ত ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ জড়াও, স্প্লিন্ট দিয়ে আটকাও, আর সাহায্য না আসা পর্যন্ত মানুষটিকে একদম স্থির রাখো।
  • কামড়ের জায়গা ধোবে না: হাসপাতাল চামড়ায় থাকা বিষ পরীক্ষা করে সঠিক অ্যান্টিভেনম বেছে নিতে পারে।

সবসময় আগে তোমার জরুরি নম্বরে (১১২, ০০০, ৯১১) ফোন করো। এটা সাধারণ প্রাথমিক চিকিৎসার নির্দেশনা, চিকিৎসকের পরামর্শ নয়। প্রাথমিক চিকিৎসার মূল কথা

নিরাপদ থাকো

  • কখনো কোনো বন্য প্রাণীকে ছুঁয়ো না, ধোরো না বা জ্বালিও না, ছোট হলেও, আর ঘুমন্ত বা মরা দেখালেও।
  • এটাকে জায়গা দাও। যদি দেখা হয়, শান্ত থাকো, ধীরে ধীরে পিছিয়ে আসো আর এটাকে নিজের পথে যেতে দাও।
  • যদি এটা তোমাকে কামড়ায়: শান্ত থাকো, নড়াচড়া কোরো না, তোমার জরুরি নম্বরে (১১২, ০০০, ৯১১) ফোন করো বা তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যাও। মনে রাখো এটা দেখতে কেমন ছিল, একটা ছবি কাজে লাগে।

এটা তোমার পেছনে লাগেনি। এটা বিষ দিয়ে খাবার ধরে বা নিজেকে রক্ষা করে, আর লুকিয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। নিরাপদ থাকা নিয়ে আরও

এটা কত বড়?

এটা কত লম্বা?

টাইগার সাপ প্রায় 2 m লম্বা (6.6 ft)বড়দের সাইকেল প্রায় 1.8 m (5.9 ft)একটা গাড়ি প্রায় 4.5 m (15 ft)
নাক থেকে লেজ পর্যন্ত 4টা পোষা বিড়ালের সমান লম্বাপাশাপাশি রাখা 11টা কলার সমান লম্বা49 সেকেন্ডে ১০০ মিটার যেতে পারে (সবচেয়ে দ্রুত মানুষের লাগে ৯.৬)

তোমার তুলনায় টাইগার সাপ কত বড়?

শুধু তোমার ব্রাউজারে একটু অঙ্ক। কিছুই সেভ হয় না বা কোথাও পাঠানো হয় না।

এটা কত দ্রুত?

জেনে রাখার মতো

তথ্য

1

একটি সাপ একবারে ৩৫ থেকে ৬৫ মিলিগ্রাম বিষ দিতে পারে, অথচ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী মাত্রা মাত্র ৩ মিলিগ্রাম।1

2

চ্যাপেল দ্বীপের টাইগার সাপ এই প্রজাতির সবচেয়ে বড় সাপ। এদের গড় দৈর্ঘ্য ৬ ফুটের বেশি (প্রায় ১.৯ মিটার)।1

3

টাইগার সাপকে সাঁতার কাটতে, গাছে উঠতে এবং বাড়িঘরে ঢুকতে দেখা যায়।1

4

অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ রাজ্যে টাইগার সাপ সংরক্ষিত প্রাণী। একে মারলে বা আহত করলে সর্বোচ্চ ৭,৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলার জরিমানা হতে পারে।1

5

টাইগার সাপ কম তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। একটু গরম রাতে এরা সক্রিয় থাকতে পারে।1

6

তাসমানিয়ার টাইগার সাপ সাধারণত শান্ত স্বভাবের হয়। সম্ভবত ঠান্ডা এলাকায় থাকে বলেই এমন।1

ভুল ধারণা ভাঙা

ভুল ধারণা: রং দেখে বোঝা যায় টাইগার সাপটি কোন ধরনের।

সত্য: আলাদা আলাদা সাপের রং এবং ঋতুভেদে রং অনেক বদলায়। তাই রং দেখে সাপ চেনা নির্ভরযোগ্য নয়। বিষ পরীক্ষার কিট বা আঁশ গোনা অনেক বেশি সঠিক উপায়।1

বিষ বিশেষজ্ঞদের জন্য

বৈজ্ঞানিক নাম
Notechis scutatus
দল
অস্ট্রেলিয়ার সাপ
পরিবার
Elapidae2
ক্রম
Squamata
মহাদেশ
অস্ট্রেলিয়া ও ওশেনিয়া
বাচ্চা
টাইগার সাপ ডিম না পেড়ে সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে। সাধারণত একবারে ২০ থেকে ৩০টি বাচ্চা হয়। পূর্বাঞ্চলের একটি স্ত্রী সাপের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী রেকর্ড আছে ৬৪টি বাচ্চার।1
মানুষের জন্য বিপদ
5 / 5: প্রাণঘাতী3

তথ্য কোথা থেকে আসে

  1. Tiger snake (Wikipedia (CC BY-SA 4.0))
  2. Notechis scutatus (iNaturalist): নাম আর শ্রেণিবিন্যাস।
  3. Venom Wiki: বিপদের মাত্রা, সাধারণ আকার আর গতির আন্দাজ আমাদের নিজস্ব। দেখো আমরা কীভাবে হিসাব করি: আমরা কীভাবে বিপদ মাপি.

এই পাতার প্রতিটি তথ্যের পাশে একটা নম্বর আছে যা তার উৎস দেখায়। যদি আমরা কিছু ভুল করে থাকি, দুঃখিত, আমরা প্রাণীপ্রেমী, বিজ্ঞান পত্রিকা নই। আমাদের [email protected]-এ জানাও, আমরা ঠিক করে দেব।

বিছার খিদে পেয়েছে! Venom Wiki একজন মানুষের প্রকল্প: বিনামূল্যে, বিজ্ঞাপন নেই, ট্র্যাকার নেই। একটু টিপ এটাকে অনলাইনে রাখতে সাহায্য করে।বিছাকে খাওয়াও

একই দলের আরও প্রাণী: অস্ট্রেলিয়ার সাপ

এখানেও থাকে: অস্ট্রেলিয়া ও ওশেনিয়া

বিছাকে খাওয়াওটিপ জার, এটাকে বিনামূল্যে রাখে